বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালে (১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩৪.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার — যা গত অর্থবছরের পুরো বছরের (২৯.২৬ বিলিয়ন ডলার) রেকর্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে দিয়েছে।
মূল তথ্য
- মোট রেমিট্যান্স (জুলাই ২০২৫ — ১৭ জুন ২০২৬): ৩৪.৫৭ বিলিয়ন ডলার
- প্রবৃদ্ধির হার: গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.১০% বেশি
- গত অর্থবছরের মোট আয়: ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলার (ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত)
- শুধু জুনের প্রথম ১৬ দিনেই: ১.৭২৯ বিলিয়ন ডলার
- ১৭ জুন ২০২৬ একদিনে: ১০৫ মিলিয়ন ডলার
কেন এটি রেকর্ড?
গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে পুরো বছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলার। এবার মাত্র সাড়ে ১১ মাসেই সেই পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, চলতি অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে — যা হবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বৈধ চ্যানেলে প্রবৃদ্ধির কারণ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সেবা ও মোবাইল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ
- হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার কমিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিংয়ে উৎসাহ প্রদান
- আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরদের সাথে সংযোগ বৃদ্ধি
- মার্চ ২০২৬-এ একমাসে ৩.৭৫-৩.৭৬ বিলিয়ন ডলার — বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
রেমিট্যান্স ও পোশাক খাতের রপ্তানি আয় মিলিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মূল উৎস। ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে, আমদানি ব্যয় মেটাতে সাহায্য করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখছে।
দেশে প্রায় ১ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি বিশ্বের ১৭৬টি দেশে কর্মরত আছেন। তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের গ্রামীণ পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
