ঈদুল আযহার আগে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠানো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ও অনাবাসী বাংলাদেশিরা মিলে মোট ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার (২.৯৭ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
- মে মাসের হিসাব যোগ করে চলতি অর্থবছরের (জুলাই–মে) ১১ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭.৫ বিলিয়ন ডলার
- একই সময়ে গত বছর এসেছিল ২১.৩৭ বিলিয়ন ডলার — অর্থাৎ এবার প্রবৃদ্ধি ২৯ শতাংশ
- ঈদুল আযহার আগে স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানোর ঐতিহ্যগত প্রবণতা এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ
কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স?
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
- সরকারি প্রণোদনা: বৈধ পথে অর্থ পাঠালে ২.৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার
- ব্যাংকগুলো ডিজিটাল চ্যানেলে রেমিট্যান্স ডেলিভারি ত্বরান্বিত করেছে
- উপহার, বিমা সুবিধা ও রেমিট্যান্সের বিপরীতে ঋণের মতো আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে ব্যাংকগুলো
- মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক হওয়ায় হুন্ডি ও হাওলার আকর্ষণ কমেছে
- বৈধ চ্যানেলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ছে — কমছে অবৈধ মানি ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের ব্যবহার
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ব্র্যাক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শাহীন ইকবাল বলেন, প্রবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় সুবিধাগুলো হুন্ডি থেকে তাদের সরিয়ে আনতে সাহায্য করছে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক বিরুপাক্ষ পাল বলেছেন, বিনিময় হার বাজারভিত্তিক হওয়ার ফলে রেমিট্যান্সকারীরা সুবিধাজনক রেট পাচ্ছেন।
প্রবাসীদের জন্য পরামর্শ
- সবসময় ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং বা অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠান
- ২.৫% সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন
- হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাঠানো আইনত দণ্ডনীয়
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
