দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষদিকে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ই-৯/ইপিএস) ব্যবস্থায় একটি ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। এই সংস্কারের ফলে বিদেশি কর্মীদের জন্য কোরিয়ায় কাজের শর্ত অনেক সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে থাকার সুযোগ তৈরি হবে — যা বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর।
প্রধান পরিবর্তনসমূহ
- বাধ্যতামূলক দেশে ফেরা বাতিল: বর্তমানে ই-৯ ভিসাধারীরা ৪ বছর ১০ মাস কাজ করার পর ১ মাসের জন্য দেশে ফিরতে বাধ্য। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্মীরা দেশে না ফিরেই ৩ বছরের স্তরে স্তরে স্টে এক্সটেন্ড করতে পারবেন — মোট ১০ বছরের বেশি কোরিয়ায় থাকার সুযোগ পাবেন।
- কর্মস্থল পরিবর্তনের সুবিধা: এতদিন কর্মস্থল পরিবর্তনে এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ ও সংখ্যার সীমা ছিল। নতুন নিয়মে এই বিধিনিষেধ উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল করা হবে।
- যোগ্যতার শর্ত (উৎপাদন খাত): প্রথম কর্মস্থলে কমপক্ষে ২ বছর কাজ করতে হবে। কোরিয়ান ভাষা সমন্বয় প্রোগ্রাম (KIIP) লেভেল ৩ বা তার উপরে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- কৃষি ও মৎস্য খাত: প্রথম কর্মস্থলে ১৮ মাস কাজের শর্ত।
কখন থেকে কার্যকর হবে?
কোরিয়ার কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুন ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে এবং ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আইনি সংশোধনী শুরু হবে। বর্তমানে বিষয়টি পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী অর্থ বহন করে?
বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৮০,০০০ বিদেশি কর্মী ই-৯ ভিসায় কোরিয়ায় প্রবেশ করেন। এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীরা দীর্ঘমেয়াদে কোরিয়ায় অবস্থান করে আরও বেশি আয় করতে পারবেন, দক্ষতা অর্জন করবেন এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে।
সূত্র: DODREAM — E-9 Employment Permit System Overhaul 2026 / কোরিয়ার কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রণালয়
