হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের সামরিক সংঘর্ষের মাঝে তিন মাসের বেশি সময় ধরে আটকে আছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ "বাংলার জয়যাত্রা"। জাহাজে রয়েছেন ৩১ জন বাংলাদেশি ক্রু, যারা মিসাইল ও মাইনের হুমকির মধ্যে প্রতিটি দিন পার করছেন মৃত্যুভয়ে।
কীভাবে আটকা পড়ল জাহাজটি?
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরান একটি কঠোর অবরোধ আরোপ করে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্যমতে, প্রায় ১,৬০০টি জাহাজ এই প্রণালির ভেতরে আটকা পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে "বাংলার জয়যাত্রা"। জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে রওনা হয়েছিল।
বিপজ্জনক পরিস্থিতি
- প্রতিদিন মাথার ওপর দিয়ে উড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র, সাগরে পাতা হচ্ছে মাইন
- আইএমও নিশ্চিত করেছে ৩৯টি হামলার ঘটনায় ১১ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন, একজন নিখোঁজ
- যুদ্ধ শুরুর দ্বিতীয় দিনে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে মাত্র ২০০ মিটার দূরে ছিল জাহাজটি
খাবার ও পানির তীব্র সংকট
চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান জানান, দুই দিন আগে ১৮০ টন পানি কিনতে তাদের ১১,০০০ ডলার ব্যয় হয়েছে — আগে এর দাম ছিল ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলার মাত্র। গ্রীষ্মের তাপে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা।
বের হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম দুবার প্রণালি পেরানোর চেষ্টা করেছেন — প্রতিবারই বাধা পেয়েছেন। সর্বশেষ ১৭ এপ্রিলের চেষ্টায় জাহাজটি মাত্র ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছে ছিল, কিন্তু হামলার সতর্কবার্তায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
নাবিকদের মানসিক অবস্থা
ক্যাপ্টেন শফিকুল বলেন, "আমরা এমন একটা জায়গায় আটকা পড়ছি — যেন একটা পুকুর। আমাদের বের হওয়ার রাস্তা একটাই, সেটা হরমুজ। জানি না কবে বের হতে পারব।" ক্রুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ক্লান্ত, ঘুমের ঘোরেও সামান্য শব্দে ধড়ফড় করে জেগে উঠছেন।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
