মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিন্ডিকেট দূর করতে এবং বাংলাদেশি কর্মীদের পুনরায় পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। ১৮ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই তথ্যে জানানো হয়, শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের জন্য সক্রিয় উদ্যোগ চলছে।
পটভূমি: কেন বন্ধ ছিল মালয়েশিয়ার বাজার?
২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। মূল কারণ ছিল রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিজেদের মুঠোয় রেখে অতিরিক্ত খরচ চাপিয়ে দিত।
সরকারের নতুন পদক্ষেপ
- সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ
- মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে কর্মী পাঠানোর পথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে
- কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তিনির্ভর ও AI-ভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহারের পরিকল্পনা, যাতে মধ্যস্থতাকারী কমে যায়
- Employer Pays Principle বাস্তবায়নে জোর দেওয়া, অর্থাৎ নিয়োগকর্তাই নিয়োগ খরচ বহন করবেন
কর্মীদের জন্য সম্ভাবনা
২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। সঠিক পথে শ্রমবাজার পুনরায় খুললে এটি অনেক বেকার তরুণের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠবে।
কোন খাতে কাজের চাহিদা বেশি?
- নির্মাণ ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর
- প্ল্যান্টেশন ও কৃষিকাজ
- সার্ভিস সেক্টর (হোটেল, রেস্তোরাঁ)
- ক্লিনিং ও সিকিউরিটি
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিন্ডিকেট ভাঙার প্রক্রিয়া শেষ হলে এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত হলে দ্রুত কর্মী পাঠানো শুরু হবে। আগ্রহী কর্মীদের BMET-এর অধীনে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
