বিদেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং সব সরকারি সেবা এক জায়গায় আনার দাবি জোরালো হয়েছে। বাদাবন সংঘ এবং প্রথম আলো আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি উঠে আসে।
গোলটেবিল বৈঠকের মূল বিষয়
১৫ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের বিভিন্ন সেবা পেতে একাধিক সরকারি দফতরে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলার। এই সমস্যা সমাধানে সব সেবা এক ছাতার নিচে আনার প্রস্তাব করা হয়।
বৈঠকে যে দাবিগুলো উঠে এসেছে
- রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহি: মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশ পাঠানো এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
- এক ছাতার নিচে সেবা: পাসপোর্ট, ভিসা, বিমা, প্রশিক্ষণ ও আইনি সহায়তাসহ সব সেবা একটি কেন্দ্র থেকে প্রদান।
- আইনি সুরক্ষা: বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারী শ্রমিকদের জন্য দ্রুত আইনি সহায়তার ব্যবস্থা।
- প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং: যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করা।
- কর্মসংস্থান চুক্তি: নারী কর্মীদের জন্য দেশের ভাষায় স্বচ্ছ ও বিস্তারিত নিয়োগপত্র নিশ্চিত করা।
- ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসন: দেশে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের জন্য পুনর্বাসন ও পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ।
বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী গৃহকর্মী ও কারখানা শ্রমিক হিসেবে বিদেশ যান। তাঁদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। তবে অনেক সময় তাঁরা প্রতিশ্রুত বেতন ও সুবিধা না পেয়ে নির্যাতনের শিকার হন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বক্তারা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন।
সরকারের করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কেন্দ্রীয় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করলে নারী শ্রমিকরা একটি জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব সেবা পাবেন। এতে হয়রানি কমবে এবং তাঁদের অধিকার রক্ষা সহজ হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
