মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে — আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে অভিবাসী কর্মীদের নিয়োগের কোনো খরচ বহন করা উচিত নয়। নিয়োগকর্তাই সব খরচ দেবেন — এটাই ILO-এর 'Employer Pays Principle' বা নিয়োগকর্তা-পরিশোধ নীতি।
ILO কী বলছে?
ILO-এর ২০১৮ সালে গৃহীত ও ২০১৯ সালে অনুমোদিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, নিয়োগ ফি বলতে বোঝায় চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যেকোনো সময়, যেকোনো পদ্ধতিতে আদায় করা যেকোনো অর্থ — তা যতই ছোট হোক না কেন। ILO বলছে:
- কর্মীর কাছ থেকে কোনো নিয়োগ ফি নেওয়া হবে না
- মালয়েশিয়ায় বিমান টিকিট, আবাসন এবং অন্যান্য বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন
- ২০২১ সালের বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া MoU অনুযায়ী নিয়োগকর্তাই মালয়েশিয়া-পাশের খরচ দেবেন
বাস্তব পরিস্থিতি কী?
বাস্তবে অনেক বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে দালালদের মাধ্যমে ৩–৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। ২০২৩ সালে রিপোর্ট বেরিয়েছিল যে অনেক কর্মী বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পর দেখেছেন প্রতিশ্রুত চাকরি নেই। এটি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া MoU-র সরাসরি লঙ্ঘন।
মালয়েশিয়া ২০২৬ সালে আবার কর্মী নিচ্ছে
২০২৪ সালের জুনে স্থগিত করার পর মালয়েশিয়া ২০২৬ সালে আবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া শুরু করেছে। ২০২৬ সালে ৩০,০০০–৪০,০০০ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ILO মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ উভয় সরকারকে এই নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
আপনার অধিকার জানুন
- বৈধ চ্যানেলে (BOESL বা লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি) আবেদন করুন
- চুক্তিপত্র সই করার আগে ভালো করে পড়ুন — বিশেষত বেতন, কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা ও আবাসন
- কোনো দালাল বা ব্যক্তিকে নগদ অর্থ দেবেন না
- যেকোনো সমস্যায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইন: ০৮০০ ৫৫৫ ৫৫৫৫
