বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। শুধু শ্রমিক পাঠানোর বাইরে দুই দেশ এখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় পূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়তে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুন ২১-২২ তারিখ কুয়ালালামপুর সফরে রওনা হওয়ার আগে থেকেই এই নতুন এজেন্ডার রূপরেখা স্পষ্ট হচ্ছে।
তিনটি নতুন MoU সই হওয়ার পরিকল্পনা
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এই সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া তথ্য, সংস্কৃতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আলোচনা শুরু করতে তিনটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করবে।
শ্রম বাজার পুনরুদ্ধার ও অনথিভুক্ত কর্মীদের বৈধতা
- মালয়েশিয়া ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার সেই বাজার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- বৈধ ভিসা পেয়েও যেতে পারেননি এমন কর্মীদের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।
- অনথিভুক্ত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ করার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।
- বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন।
সেমিকন্ডাক্টর ও হালাল খাতে নতুন সুযোগ
মালয়েশিয়া বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বাণিজ্যের ৭% এবং চিপ অ্যাসেম্বলি ও প্যাকেজিংয়ের ১৩% নিয়ন্ত্রণ করে। এই উচ্চমূল্যের খাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। হালাল ফুড, শিক্ষা ও গবেষণাতেও যৌথ সহযোগিতার দরজা খুলছে।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার হলেও বাংলাদেশ মাত্র ৩০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এই বিশাল ব্যবধান কমাতে FTA আলোচনা শুরু হওয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
বাংলাদেশ শিগগিরই স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করবে। তখন বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা আর থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার মতো বড় অংশীদারের সাথে FTA নিশ্চিত করা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে সুরক্ষিত রাখবে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
