মরক্কো বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন শ্রমবাজার হিসেবে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন সম্প্রতি মরক্কোর নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লায়লা বুতিনা এল-কেরদুদি এল-কুলালিকে পরিচয়পত্র গ্রহণকালে দেশটিতে বাংলাদেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কোন কোন খাতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে?
- স্বাস্থ্যসেবা: চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল পদে কর্মী চাহিদা
- কৃষি: আধুনিক কৃষিব্যবস্থায় দক্ষ কৃষি কর্মী
- অবকাঠামো উন্নয়ন: নির্মাণ ও অবকাঠামো প্রকল্পে কর্মসংস্থান
- তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প: পোশাক উৎপাদনে অভিজ্ঞ কর্মী
- আইসিটি: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল
বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে?
৯ জুন ২০২৬ তারিখে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে চমৎকার ও ক্রমেই জোরদার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উভয় দেশেরই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তার করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মরক্কোতে ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফরের কথা স্মরণ করেন এবং রাবাতে তাঁর নামে একটি রাস্তার নামকরণ করায় মরক্কোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মানব সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন
রাষ্ট্রপতি মরক্কোর নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়নে গৃহীত ব্যাপক কর্মসূচি ও সাম্প্রতিক অর্জনের কথা জানান। উভয় সরকার ও বেসরকারি খাতের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মরক্কোর সহায়তা
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মরক্কোর সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
মরক্কো এখনো সরকারিভাবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার তালিকায় পুরোদমে অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে এই সফরকালে রাষ্ট্রপতির আহ্বান এবং উভয় দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে নিয়োগ চুক্তির দ্বার উন্মোচন করতে পারে। স্বাস্থ্য, কৃষি বা আইসিটি খাতে দক্ষতা থাকলে এখনই প্রশিক্ষণ ও সনদ নেওয়ার প্রস্তুতি নিন।
