বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের ৭০-৭৫ শতাংশ এখনো মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। এই একমুখী নির্ভরতা কমাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার অন্তত ১৬টি নতুন দেশে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
কেন নতুন বাজারের দরকার?
বর্তমানে সৌদি আরবেই যায় মোট কর্মীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। মাত্র ৮টি দেশে প্রতি বছর ১০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। একটি দেশ বা অঞ্চলে সংকট তৈরি হলে পুরো রেমিট্যান্স প্রবাহ বিপদে পড়ে। তাই নতুন গন্তব্য খোঁজার এই উদ্যোগ।
নতুন কোন কোন দেশে সুযোগ তৈরি হচ্ছে?
- জাপান — দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য ৫ বছরে ১ লাখ; এমওইউ সই হয়েছে
- দক্ষিণ কোরিয়া — মৌসুমী শ্রম চুক্তি কার্যকর, ইতিমধ্যে কর্মী পাঠানো শুরু
- ইতালি — মৌসুমী ও অমৌসুমী কর্মী প্রেরণে এমওইউ স্বাক্ষরিত
- জার্মানি — নার্সিং ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর আলোচনা চলছে
- থাইল্যান্ড — প্রস্তাব আইনি যাচাইয়ের পর অনুমোদন মিলেছে, উত্তর পাওয়ার অপেক্ষা
- সিঙ্গাপুর — দক্ষ কর্মী পাঠানো পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে
- ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন — আলোচনা চলমান
চ্যালেঞ্জ কী?
ইউরোপীয় দেশগুলোতে ভাষা দক্ষতা, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেট এবং কঠোর কমপ্লায়েন্স প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কাগজে চুক্তি করলেই হবে না — নিয়মিত দূতাবাস-স্তরের ফলোআপ এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না হলে চুক্তি বাস্তবে রূপ নেবে না।
সরকার কী বলছে?
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, “আমরা এইমাত্র শুরু করেছি — আগামী তিন বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আশা করা যায়।” ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ লাখ ১৫ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশ গেছেন, তবে মাত্র ১৮ শতাংশ দক্ষ শ্রমিক ছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো ইংরেজি
