মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে "উড়িয়ে দেওয়ার" হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা ওমানে কর্মরত প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত ২৭ মে হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, "ওমান সবার মতো আচরণ করবে, নাহলে আমরা তাদের উড়িয়ে দিতে বাধ্য হব।"
কেন এই হুমকি?
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের সাথে আলোচনা চলছিল ওমানের। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ট্রাম্প ওমান-ইরানের এই সম্ভাব্য জোটকে মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের কী হবে?
- ওমানের জাতীয় পরিসংখ্যান কেন্দ্রের (NCSI) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওমানে মোট ১৭.৭৬ লাখ বিদেশি কর্মীর মধ্যে ৬.৯৮ লাখ বাংলাদেশি — যা সব দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
- ওমানে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রধানত নির্মাণ, পরিবহন, সেবা খাত ও গৃহকর্মে নিয়োজিত।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
- হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে ওমানের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে, যা বিদেশি কর্মীদের বেতন ও চাকরির নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলতে পারে।
ওমানের প্রতিক্রিয়া
ওমান এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি। ইরানও বলেছে, ট্রাম্পের এই হুমকি তাদের কোনো চাপে ফেলবে না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি মূলত কূটনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রবাসীদের করণীয়
- পরিস্থিতির উপর নজর রাখুন এবং বাংলাদেশ দূতাবাস ওমানের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
- জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন ব্যবহার করুন।
- ওমান ত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অফিসিয়াল নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করুন।
- পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন এবং নিকটস্থ পরিবারকে আপডেট রাখুন।
সূত্র: আল জাজিরা, টাইম ম্যাগাজিন
