ইতালীয় রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেক্সান্দ্রো নিশ্চিত করেছেন যে, গত এক বছরে প্রায় ২০,০০০ বাংলাদেশি নাগরিক বৈধপথে ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জাহির উদ্দীন স্বপন একই সঙ্গে ইতালিকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন। ঢাকায় তাদের মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই বিষয়ে আলোচনা হয়।
কতজন গেছেন এবং কীভাবে?
- গত এক বছরে বৈধপথে ইতালিতে কর্মী গেছেন প্রায় ২০,০০০ জন
- ইতালির ডেক্রেতো ফ্লুসি (Decreto Flussi) প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ অগ্রাধিকার দেশের তালিকায় রয়েছে
- ২০২৬–২০২৮ মেয়াদে ইতালি মোট ৪,৯৭,৫৫০টি কাজের ভিসা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে
- শুধু ২০২৬ সালে বরাদ্দ ১,৬৪,৮৫০টি ওয়ার্ক পারমিট
- অগ্রাধিকার ৩৮টি দেশের জন্য প্রতি বছর ২৫,০০০টি ভিসা সংরক্ষিত — বাংলাদেশও এই তালিকায়
কী কী খাতে সুযোগ?
- কৃষি: প্রতি বছর ৪৭,০০০ মৌসুমী ভিসা
- পর্যটন ও হোটেল: ১৩,০০০–১৫,০০০ ভিসা
- নির্মাণ ও উৎপাদন শিল্প: অ-মৌসুমী ভিসায় সুযোগ
- গৃহসেবা ও কেয়ারগিভার: প্রতি বছর ১৩,৬০০–১৪,২০০টি ভিসা
মন্ত্রী স্বপনের আহ্বান
তথ্যমন্ত্রী স্বপন বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা ইতালিতে "বিশেষ সুনাম" অর্জন করেছেন এবং তারা উভয় দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। তিনি আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীকে বৈধপথে ইতালিতে পাঠানোর জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। সেইসঙ্গে সম্প্রচার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরেও সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।
অবৈধপথের বিরুদ্ধে সতর্কতা
উভয় পক্ষই অবৈধ সমুদ্রপথে অভিবাসনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। বৈধপথে ইতালি যাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ ও লাভজনক — অবৈধ পথ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে ভিসাপ্রাপ্তিতে জটিলতা তৈরি করে।
কর্মীদের জন্য করণীয়
- দক্ষতা অর্জন করুন — কৃষি, নির্মাণ ও কেয়ারগিভিং খাতে প্রশিক্ষণ নিন
- বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করুন
- BOESL ও BMET ওয়েবসাইট নিয়মিত অনুসরণ করুন
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
