কাতার আবারও বাংলাদেশি শ্রমিক নিতে আগ্রহী — বিশেষ করে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার ও এসি টেকনিশিয়ানের মতো দক্ষ কর্মী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে: যে ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি ইতিমধ্যেই কাতারে আছেন, তাঁদের একটি বড় অংশ কি এখন ভালো আছেন?
কাতারের শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থা
মে মাসে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি ঢাকা সফর করেন এবং বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কাতার জানিয়েছে, দেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) থেকে সরাসরি দক্ষ কর্মী নিতে চায় তারা। বর্তমানে কাতারে ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত, যার ৩০ শতাংশ উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ করছেন।
পোস্ট-বিশ্বকাপ সংকট
২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য কাতারে বিশাল নির্মাণযজ্ঞ হয়েছিল — স্টেডিয়াম, মেট্রোরেল, হোটেল, বিমানবন্দর সবকিছু। সেই নির্মাণকাজে লক্ষাধিক বাংলাদেশি কাজ পেয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে:
- অনেক কোম্পানি প্রকল্প গুটিয়ে নিয়েছে
- ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই হয়েছে
- হাজার হাজার শ্রমিক কাজহীন ও বেতনহীন
- অনেকে ভিসা-বাণিজ্য ও দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন
- কেউ কেউ অবৈধ অবস্থায় পড়েছেন, খাবার ও চিকিৎসার অভাব রয়েছে
সরকারের উদ্বেগ ও কর্তব্য
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন শ্রমিক পাঠানোর আগে সরকারের উচিত বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করা। যাঁরা ইতিমধ্যে বিপদে আছেন, তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে নতুন শ্রমিক পাঠানো সংকট আরও জটিল করবে। ২০২৩ সালে কাতারে গেছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন কর্মী।
কাতার যাওয়ার আগে যা জানবেন
- সরকারি চ্যানেল (বিওইএসএল) ব্যবহার করুন
- নিয়োগকর্তা ও কোম্পানির তথ্য যাচাই করুন
- কাজের চুক্তিপত্র বাংলায় পড়ে স্বাক্ষর করুন
- যাওয়ার আগে পরিবারকে নিয়োগদাতার তথ্য জানান
- দালালের মাধ্যমে না গিয়ে নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবহার করুন
সূত্র: প্রথম আলো
