সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এখন শুধু দক্ষ পেশায় নয়, ক্লিনার ও লোডিং-আনলোডিং কাজের ক্ষেত্রেও স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম (SVP) সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মোট ৭৩টি পেশায় এই সনদ না থাকলে সৌদি দূতাবাস থেকে ভিসা অনুমোদন মিলছে না। ফলে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী ৮০ থেকে ৯০ হাজার ভিসা আবেদন এখন দূতাবাসে আটকে পড়েছে।
ক্লিনার-লোডারও এখন পড়ছে SVP-এর আওতায়
সৌদি আরব ২০২৩ সালে মাত্র ৫টি কারিগরি পেশায় SVP চালু করেছিল — প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, এসি টেকনিশিয়ান ও অটোমোবাইল ইলেকট্রিশিয়ান। কিন্তু গত দুই বছরে এটি দ্রুত সম্প্রসারিত হয়ে এখন ৭১ থেকে ৭৩টি পেশায় পৌঁছেছে। সর্বশেষ সংযোজন হলো ক্লিনার ও লোডিং-আনলোডিং কর্মী — যারা বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী মোট কর্মীর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।
কোথায় পাবেন এই সার্টিফিকেট?
- বাংলাদেশের ২৬টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC) SVP পরীক্ষা পরিচালনার জন্য সৌদি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত — এগুলো মূলত BMET-এর অধীন
- পরীক্ষা দিতে হয় সৌদি সরকারের অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম তাকামোল (Takamol)-এ নিবন্ধনের মাধ্যমে
- পরীক্ষায় দুটি অংশ: তাত্ত্বিক (অনলাইন) — কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা ও পেশাদার জ্ঞান; এবং ব্যবহারিক — সরাসরি দক্ষতা যাচাই
- পরীক্ষার ফি: ৫০ মার্কিন ডলার (প্রতি প্রচেষ্টায়)
- সনদ বৈধ থাকে ৫ বছর
আটকে পড়েছে হাজারো ভিসা আবেদন
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রিক্রুটিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন (বায়রা)-র তথ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করে এই সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক হওয়ায় ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে ৮০,০০০ থেকে ৯০,০০০ ভিসা আবেদন ঝুলে আছে। যাদের ভিসা ইতিমধ্যে প্রক্রিয়ায় ছিল কিন্তু SVP সনদ নেই, তারা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন।
কম বেতনের বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, SVP সার্টিফিকেট পাওয়ার পরেও বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়নি। যারা পরীক্ষায় ফেল করছেন, তাদের পুনরায় ৫০ ডলার দিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে — ফলে মাইগ্রেশন খরচ আরও বাড়ছে।
করণীয়: সৌদি যাওয়ার আগেই সনদ নিন
- সৌদি আরবে যেতে ইচ্ছুক প্রতিটি কর্মীকে এখন যাত্রার আগেই SVP সার্টিফিকেট নিতে হবে
- নিকটতম BMET অনুমোদিত TTC-তে যোগাযোগ করুন এবং তাকামোল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করুন
- ভুয়া সার্টিফিকেট অফারকারী দালালদের থেকে সাবধান থাকুন
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
