যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন একটি যুগান্তকারী অভিবাসন নীতি পরিবর্তন ঘোষণা করেছে — এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় (H-1B, স্টুডেন্ট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা) অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পেতে হলে প্রথমে দেশে ফিরে নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে আবেদন করতে হবে। ২২ মে ২০২৬ তারিখে USCIS (মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা) এই নির্দেশনা জারি করে।
কী পরিবর্তন হলো?
আগে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায়ই গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যেত। নতুন নীতি অনুযায়ী USCIS এখন এই আবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করবে এবং আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে কনস্যুলার প্রসেসিং পদ্ধতিতে আবেদন করতে বলা হবে।
কারা প্রভাবিত হবেন?
- H-1B ভিসাধারী — যারা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন
- স্টুডেন্ট ভিসাধারী — পড়াশোনা শেষে বিয়ে বা চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেতে যারা আবেদন করেছেন
- ট্যুরিস্ট বা ভিজিটর ভিসাধারী — যাদের পরিবারের পিটিশন অনুমোদিত হয়েছে
- মেয়াদ উত্তীর্ণ ভিসাধারী — যারা অনুমোদিত পরিবার পিটিশনের অপেক্ষায় থেকে দেশে থেকে গেছেন
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোথায়?
যারা ১৮০ দিনের বেশি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তারা দেশে ফিরলে ৩ বছরের নিষেধাজ্ঞা পাবেন। যারা ১ বছরের বেশি অবৈধভাবে আছেন, তারা দেশে ফিরলে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা পাবেন। এই নিষেধাজ্ঞা দেশ ছাড়ার মুহূর্তেই কার্যকর হয়, এমনকি গ্রিন কার্ড অনুমোদিত হলেও।
বাংলাদেশিদের জন্য পরামর্শ
- আবেদন করার আগে একজন অভিজ্ঞ মার্কিন অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিন
- আপনার মার্কিন ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ এবং অবৈধ উপস্থিতির সময়কাল নির্ণয় করুন
- কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের জন্য অনেক বেশি সময় লাগতে পারে — পরিকল্পনা আগেভাগে করুন
- ঢাকার মার্কিন দূতাবাস: ০৮৮-০২-৫৫৬৬-২০০০
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস | NBC News
