মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার জন্য আবেদন করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড নীতি চালু করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী B1/B2 (পর্যটন ও ব্যবসায়িক) ভিসার জন্য আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময় ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে।
ভিসা বন্ড নীতি কী?
ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত। ভিসা পাওয়ার পর আবেদনকারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যান, তাহলে পুরো বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। কিন্তু যদি অবৈধভাবে থেকে যান, তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।
বন্ডের পরিমাণ কত?
- ৫,০০০ ডলার: সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য।
- ১০,০০০ ডলার: মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের জন্য।
- ১৫,০০০ ডলার: উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের জন্য।
বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা, পূর্ব ভ্রমণ ইতিহাস এবং অন্যান্য কারণের ভিত্তিতে।
কোন ভিসায় প্রযোজ্য?
- B1 ভিসা: ব্যবসায়িক ভ্রমণ (মিটিং, কনফারেন্স ইত্যাদি)।
- B2 ভিসা: পর্যটন, পরিবার পরিদর্শন বা চিকিৎসার জন্য।
পেমেন্ট কীভাবে করবেন?
বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে হবে মার্কিন কোষাগারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে। সাক্ষাৎকারের সময়ই এই পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশি ভিসাপ্রার্থীদের জন্য পরামর্শ
- যদি B1/B2 ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে বন্ড দেওয়ার জন্য আর্থিক প্রস্তুতি রাখুন।
- শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাসে আবেদন করুন।
- ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বৈধ ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ভ্রমণ প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন।
- প্রতিটি কেসের বন্ডের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে — অফিসারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।
- বন্ড দেওয়ার পরও ভিসা না-ও পেতে পারেন — তাই অতিরিক্ত খরচের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
কেন এই নীতি?
মার্কিন সরকারের মতে, এই নীতি চালুর লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসন কমানো এবং ভিসার মেয়াদ শেষে দেশ ছেড়ে না যাওয়াদের (ওভারস্টে) বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এই তালিকায় থাকা দেশগুলো প্রধানত দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের।
সূত্র: নিউ এজ বিডি
