আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের (আইটিইউসি) ২০২৬ গ্লোবাল রাইটস ইনডেক্স প্রকাশিত হয়েছে সোমবার। এবারের সূচকে বাংলাদেশ ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ১০টি দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে — যা বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি।
কী পরিবর্তন হয়েছে?
- ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সীমা শিথিল: আগে কোম্পানির ২০% কর্মীর সম্মতি লাগত, এখন মাত্র ২০ জন শ্রমিকের সমর্থনেই ইউনিয়ন করা যাবে।
- মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি: নতুন আইনে ১২০ দিনের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
- গৃহকর্মী ও কৃষিশ্রমিকদের অধিকার: এ দুটি খাতে প্রথমবারের মতো সামাজিক নিরাপত্তা ও ইউনিয়ন অধিকার সম্প্রসারিত হয়েছে।
- শিপব্রেকিং শিল্পে বিধিমালা: ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ ভাঙা শিল্পকে প্রথমবারের মতো শ্রম বিধিমালার আওতায় আনা হয়েছে।
তবু সতর্কতা আছে
আইটিইউসি জানিয়েছে, তালিকার উন্নতি হলেও বাংলাদেশ এখনো রেটিং ৫ — "কোনো অধিকারের নিশ্চয়তা নেই" — বিভাগে রয়েছে। ছোট কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন এখনো কঠিন, এবং ৫০ জন কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানেও ৪০% প্রতিনিধিত্বের শর্ত বজায় আছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমদ বলেন, সাম্প্রতিক সংস্কারগুলো ইতিবাচক হলেও প্রশাসনিক বাধাগুলো দূর না হলে বাস্তব সুফল মিলবে না।
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য কী মানে?
এই স্বীকৃতি বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি উন্নত করবে — যা ভবিষ্যতে বিদেশে কর্মসংস্থান চুক্তিতে সহায়ক হতে পারে। মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও ইউরোপের মতো দেশগুলো শ্রমিক পাঠানোর আগে শ্রম অধিকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে।
সূত্র: দ্য নিউ এজ বাংলাদেশ
