দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের স্বপ্ন নিয়ে ইপিএস (এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার দুই বছর পার হয়ে গেছে, তবুও যেতে পারেননি ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের প্রায় ১২ হাজার কর্মী। ক্ষুব্ধ কর্মীরা অটোরোস্টার ও পুনর্বহালের দাবিতে গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন।
কেন এই কর্মীরা কোরিয়া যেতে পারছেন না?
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, বোয়েসেলের (BOESL) কিছু কর্মকর্তার অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে তাদের নাম রোস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও বারবার আশ্বাসের পরও কোরিয়ায় যেতে না পারায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিসমূহ
- রোস্টার থেকে বাদ পড়া ১২ হাজার কর্মীকে অবিলম্বে পুনর্বহাল ও অটোরোস্টার করতে হবে।
- কোরিয়া গমনেচ্ছুদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বোয়েসেলের অভ্যন্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে।
- ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের ফাইল একাধিকবার কোরিয়ান নিয়োগদাতাদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
- অটোরোস্টারের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নতুন সার্কুলার বন্ধ ও চলমান সার্কুলার স্থগিত রাখতে হবে।
ভুক্তভোগীর কণ্ঠস্বর
ভুক্তভোগী কর্মী আবির বলেন, "গত ৪ এপ্রিল আমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা হয়নি।"
আন্দোলনকারীরা জানান, হাজার হাজার সম্ভাবনাময় তরুণ ও রেমিট্যান্স যোদ্ধার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তারা গণমাধ্যম ও সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট
