সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হঠাৎ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো জানুয়ারির তুলনায় ৩৩ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা জালিয়াতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনই এর মূল কারণ।
কী ঘটেছে?
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গত মাসে হাজার হাজার প্রক্রিয়াধীন ভিসা আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান প্রকৃত কাজের চাহিদা না থাকলেও মিথ্যা জব ডিমান্ড জমা দিয়েছিল। ফলে বহু কর্মী ভিসা পাওয়ার পরও কাজ বা ইকামা (বৈধ বসবাস অনুমতি) পাচ্ছেন না।
সংখ্যার চিত্র
- জানুয়ারি মাসে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী গেছেন: ৬৫,৪১০ জন
- ফেব্রুয়ারি মাসে: মাত্র ৪৩,৯০৩ জন — তুলনামূলকভাবে ৩৩% কম
- সামগ্রিকভাবে ফেব্রুয়ারিতে মোট বিদেশ গমন: ৬৫,০৭৬ জন (জানুয়ারিতে ছিল ৯৫,০৯২)
- ফেব্রুয়ারির প্রথম ৫ দিনে সৌদি গেছেন মাত্র ৫,৪৭৪ জন (জানুয়ারির একই সময়ে ১৩,৬৬১)
- শিল্প সূত্র বলছে, ভিসা ইস্যু করা পূর্ববর্তী মাত্রার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে
কেন এই পরিস্থিতি?
- ভিসা জালিয়াতি: বহু নিয়োগদাতা সংস্থা বাস্তবে কাজ না থাকলেও ভুয়া চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি: আঞ্চলিক টানাপোড়েনে নতুন শ্রমিক নিয়োগে অনীহা
- ইকামা সমস্যা: ভিসা পেলেও কর্মীরা ইকামা পাচ্ছেন না, অবৈধ হয়ে পড়ছেন
সরকারের অবস্থান
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় সভা হয়েছে। তিনি বলেছেন, "সৌদি কর্তৃপক্ষ নতুন যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা চালু করেছে। আমরা আশা করছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে।"
বাংলাদেশের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
সৌদি আরব বাংলাদেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স উৎস। ২০২৫ সালে সৌদি প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫০৮ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের (৩,২৮১ কোটি ডলার) ১৫ শতাংশ। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। ২০২৫ সালে দেশ থেকে বিদেশ যাওয়া কর্মীদের ৬৭ শতাংশই সৌদি আরব গেছেন।
কর্মীদের জন্য পরামর্শ
- অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ও বিএমইটি-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করুন
- ভিসা পাওয়ার আগেই কাজের চুক্তিপত্র যাচাই করুন
- দালাল বা অবৈধ মাধ্যমে না গিয়ে বৈধ চ্যানেলে চেষ্টা করুন
- পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই নিরাপদ
