বিদেশে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশির জন্য সুখবর। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য "প্রবাসী কার্ড" চালু করা হবে। এই কার্ড চালু হলে প্রবাসীরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা সহজেই পেতে পারবেন।
প্রবাসী কার্ড কী?
প্রবাসী কার্ড হলো বিদেশে কর্মরত বা বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ পরিচয়পত্র ও সুবিধা কার্ড। এটি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চালু হবে এবং এর মাধ্যমে প্রবাসীরা একটি একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁদের সব তথ্য ও সেবা পরিচালনা করতে পারবেন।
কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
- দেশে ফেরার সুবিধা: বিমানবন্দরে বিশেষ সুবিধা ও দ্রুত ইমিগ্রেশন সেবা।
- ব্যাংকিং সুবিধা: বিশেষ সুদের হারে ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয় প্রকল্পে অংশগ্রহণ।
- স্বাস্থ্যসেবা: পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি হাসপাতালে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা।
- সন্তানের শিক্ষা: প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার।
- জমি নিবন্ধন: দেশে সম্পত্তি ক্রয় বা নিবন্ধনে সহায়তা।
- বীমা সুবিধা: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বীমা প্রকল্প।
- ডিজিটাল সেবা: এক কার্ডেই সব সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার।
কারা পাবেন এই কার্ড?
বৈধ ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটে বিদেশে কর্মরত সব বাংলাদেশি নাগরিক এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশেষভাবে যাঁরা বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত, তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন।
আবেদন কোথায় করবেন?
জুলাই মাসে কার্ড চালু হওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। এই কার্ড পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং পাসপোর্টের কপি প্রয়োজন হবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে বিদেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত। তাঁরা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। প্রবাসী কার্ড চালু হলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী সরকারি সুবিধা পেতে সহজে পরিচিত হতে পারবেন এবং তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
