বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক শ্রম নিয়োগ চুক্তি এখন পুরোদমে কার্যকর হচ্ছে। গত অক্টোবর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে ২ থেকে ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির মূল বিষয়সমূহ
- ডিজিটাল কনট্র্যাক্ট: প্রতিটি কর্মীকে এখন থেকে যাত্রার আগেই ডিজিটাল মাধ্যমে চুক্তিপত্র দিতে হবে — মৌখিক প্রতিশ্রুতি আর গ্রাহ্য হবে না
- ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম (WPS): কর্মীর বেতন সরাসরি তার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে — মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে নয়
- যৌথ বিরোধ নিষ্পত্তি: কর্মসংস্থান সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ সমাধানে দুই দেশের যৌথ কমিটি কাজ করবে
- কল্যাণ সেবা: আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্য বীমা ও পূর্ব-প্রস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত
- SVP সার্টিফিকেশন: কর্মীকে অবশ্যই তাকামোল SVP প্রক্রিয়ায় দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে
কোন কোন খাতে সুযোগ রয়েছে?
- নির্মাণ — ২০২৭ AFC এশিয়ান কাপ, ২০৩০ বিশ্ব এক্সপো ও ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি
- আতিথেয়তা ও পর্যটন — নিওম, লাল সাগর উন্নয়ন প্রকল্প
- স্বাস্থ্যসেবা — নার্স ও টেকনিশিয়ান
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ
- ভিশন ২০৩০ মেগাপ্রজেক্ট
বর্তমানে সৌদিতে বাংলাদেশিদের অবস্থান
বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩৬ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যারা প্রতিবছর ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। ২০২৫ সালে সৌদিতে ৭ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেছেন — যা একক দেশে সর্বোচ্চ প্রেরণের রেকর্ড।
যা মনে রাখবেন
এই চুক্তির সুফল পেতে হলে বৈধ পথে, অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা করাতে হবে এবং SVP সার্টিফিকেট অবশ্যই থাকতে হবে। অননুমোদিত চ্যানেলে গেলে WPS সুরক্ষা পাওয়া যাবে না।
