ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সাম্প্রতিক এক কঠোর অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের "ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট" নীতির আওতায় এই অভিযান চলছে এবং প্রতিদিন আরও নতুন নাম তালিকায় যোগ হচ্ছে।
বহিষ্কারের পরিসংখ্যান
- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
- আলাদা সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৪,৮০০ জন ইতোমধ্যে ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
- ৮৩৬ জন এখনও আটক কেন্দ্রে অপেক্ষমাণ।
- হাকিমপুর সীমান্ত চেকপয়েন্টে প্রতিদিন ২৫০-৩০০ জন অনথিভুক্ত অভিবাসী পুশব্যাকের শিকার হচ্ছেন।
- ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২,৮০০ জনের বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশির তথ্য ঢাকায় যাচাইয়ের জন্য পাঠিয়েছে।
কাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে?
আল জাজিরার তদন্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযান মূলত মুসলিম অনথিভুক্ত অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) অনুসারে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের মানুষরা আশ্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, কিন্তু মুসলিমরা তা থেকে বাদ পড়ছেন।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া
- বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শামা ওবায়েদ বলেছেন, নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া মেনে চলার জন্য ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জোরপূর্বক সীমান্ত পার করানোর অন্তত ১৮টি চেষ্টা ঠেকিয়েছে — এতে প্রায় ১৮০ জনকে ফেরত দেওয়া হয়।
বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা
অনথিভুক্তভাবে ভারতে কাজ বা বসবাস করছেন এমন বাংলাদেশি নাগরিকদের অবিলম্বে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বা নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন। যাঁরা ভারতে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা ভিসা ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করুন এবং এজেন্টের প্রলোভনে পড়বেন না।
সূত্র: আল জাজিরা, ১০ জুন ২০২৬
