বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এমনিতেই নার্স ও মিডওয়াইফের তীব্র সংকট চলছে। এরই মধ্যে দেশের প্রায় অর্ধেক নার্স বিদেশে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন — কিন্তু সরকারি সহায়তা ও প্রস্তুতির অভাবে বেশিরভাগই সেই পথে এগোতে পারছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত এক সরকারি গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষণায় কী বেরিয়ে এল?
- বাংলাদেশে প্রতি ১০,০০০ মানুষের জন্য মাত্র ১২.৭৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ রয়েছেন (WHO সুপারিশকৃত ৪৪.৫ জনের বিপরীতে)।
- চিকিৎসক-নার্স-মিডওয়াইফ অনুপাত ১:০.৭৫:০.৭৪ — WHO-র প্রস্তাবিত ১:৩:৫ অনুপাতের তুলনায় অনেক কম।
- ৪৫.৯% নার্স বিদেশে কাজ করতে আগ্রহী, কিন্তু মাত্র ৭.১% বিদেশি চাকরির জন্য আবেদন করেছেন।
- ৭৫% চিকিৎসক ও নার্স শহরে কেন্দ্রীভূত, অথচ ৬২% জনগণ গ্রামে বাস করেন।
বিদেশে কাজের পথে কী কী বাধা?
- ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া কঠিন
- সনদের সমতুল্যতা (Certificate Equivalence) স্বীকৃতি না পাওয়া
- লাইসেন্সিং পরীক্ষার উচ্চ ব্যয়
- সঠিক গাইডেন্সের অভাব
গবেষকদের সুপারিশ
গবেষণায় সরকারকে বিদেশে নার্স ও মিডওয়াইফ পাঠাতে সরকারি সহায়তা কাঠামো তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নার্স ও মিডওয়াইফের প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং গ্রামে স্বাস্থ্যকর্মীদের সমবণ্টন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১,২৩,৮৫৩ নিবন্ধিত এমবিবিএস চিকিৎসক ও ৮৫,৯৭১ নিবন্ধিত নার্স রয়েছেন। ২০২৬ সালে নার্সের যে চাহিদা ছিল তার মাত্র ৪৩% পূরণ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ৭১,৭৬৫টি পদ শূন্য রয়েছে — যা মোট পদের ২৮.৬%।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
